সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৭ তারিখে ৮:০৭ অপরাহ্ণ
আজ : ১৯শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং | ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

ইসলামের দৃষ্টিতে আত্মহত্যা

মেহেদী আকরাম | এপ্রিল ৬, ২০১৭, ৪:৪১ অপরাহ্ণ
Domain

ইসলামে ধর্মে আত্মহত্যা মহাপাপ ও অত্যন্ত ঘৃণ্য কাজ। পারিবারিক বিপর্যয়,ব্যাথর্তা, মানসিক অশান্তি, দুঃখে-কষ্টে বা হতাশায়, জেদ, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা, আর্থ-কষ্ট ইত্যাদি কারনে অনেকে আত্মহত্যার মতো ধ্বংসাত্মক পথ বেছে নেয়। এর সাথে যুক্ত হয়েছে তথাকথিত ‘জিহাদ’ এর নামে আত্মঘাতী হামলা। তবে এটা জেনে রাখা দরকার কোনো পরিস্থিতিতেই আত্মহত্যা করা যাবে না, কারন ইসলামের দৃষ্টিতে আত্মহত্যাকারী পরিণতি হলো জাহান্নাম।
আত্মহত্যা থেকে বিরত থাকতে আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরাআনে এরশাদ করেছেন,

‘তোমরা নিজেদের হত্যা কোরো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু এবং যে কেউ সীমা লঙ্ঘন করে অন্যায়ভাবে তা করবে, তাকে অগ্নিতে দগ্ধ করব; এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।’ (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ২৯-৩০)।

‘তোমরা তোমাদের নিজেদের ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ কর না।’ (সূরা বাকারা; আয়াত: ১৯৫)।

‘তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। আল্লাহ যাবতীয় অপরাধ মার্জনা করেন।’ (সূরা জুমার; আয়াত: ৫৩)।

‘যে ব্যক্তি কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করে জগতে বিপর্যয় সৃষ্টি বা হত্যার শাস্তি ব্যতিরেকে সে যেন সব মানুষকেই হত্যা করে। আর যে ব্যক্তি কোনো ব্যক্তিকে জীবন্ত রাখে সে যেন সব মানুষকেই জীবন্ত রাখে।’ (সূরা মায়িদা : আয়াত: ৩২)।

এ দ্বারা বোঝা যায় ধৈর্য ধারণ করে আল্লাহর ওপর ভরসা ও দৃঢ় আস্থা থাকলে কারও পক্ষ্যে আত্মহত্যার মত জঘন্য কাজ করা সম্ভব না। আত্মহত্যা ও আত্মঘাতী হামলা ইসলামের দৃষ্টিতে একই ধরনের জঘন্য অপরাধ। আত্মঘাতী হামলা করে সাধারণ মানুষকে হত্যা করে কখনোয় জান্নাতে যাওয়া যাবে না। আর্থাৎ আল্লাহ তাআলা নির্দেশ অমান্য করে আত্মহত্যা করে বা আত্মঘাতী হামলা কেউ জান্নাতে যেতে পারবে না। তার পরিণতি নিশ্চত জাহান্নাম।

আত্মহত্যা থেকে বিরত থাকতে এবং এর শাস্তি সম্পর্কে কিছু হাদিস

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো বস্তু চিবিয়ে আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামেও তা চিবাতে থাকবে এবং সব সময় নিজেকে ধ্বংস করতে থাকবে। আর যে ব্যক্তি নিজেকে গর্ত ইত্যাদিতে নিক্ষেপ করে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামেও সেভাবেই করতে থাকবে। আর যে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামেও সেরূপ করতে থাকবে।’ -সহিহ বোখারি শরিফ: ১২৯৯

হজরত জুন্দুব (রা.) সূত্রে বর্ণিত, এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের আগের লোকদের মধ্যে এক ব্যক্তি আঘাতের ব্যথা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। আল্লাহতায়ালা ওই ব্যক্তি সম্পর্কে বলেন, ‘আমার বান্দা নির্ধারিত সময়ের আগেই তার নিজের জীবনের ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সুতরাং আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম।’ –সহিহ বোখারি শরিফ: ৩২৭৬

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজেকে পাহাড় থেকে নিক্ষেপ করে হত্যা করবে, সে জাহান্নামে যাবে। সব সময় সে সেখানে অবস্থান করবে। সব সময় তা থেকে পতিত হতে থাকবে। আর যে ব্যক্তি বিষপানে আত্মহত্যা করবে, দোজখেও তার হাতে বিষ থাকবে। সেখানেও সে তা পান করতে থাকবে এবং চিরকাল সেখানে থাকবে। আর যে ব্যক্তি অস্ত্র দিয়ে আত্মহত্যা করবে, সেরূপ অস্ত্র দোজখেও তার হাতে থাকবে। সর্বক্ষণ সে নিজের পেটে ওই অস্ত্র দ্বারা আঘাত করতে থাকবে এবং সর্বক্ষণ এরূপ করতে থাকবে।’ -সহিহ বোখারি শরিফ: ৫৪৪২

হজরত সাবেত ইবনে জাহ্হাক (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো বস্তু দ্বারা আত্মহত্যা করবে, সে চিরদিন জাহান্নামের আগুনে ওই বস্তু দ্বারা শাস্তি পেতে থাকবে।’ -সহিহ বোখারি শরিফ: ৫৭৫৪

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আমার পরে তোমরা পরস্পরকে হত্যা করে কুফরির দিকে ফিরে যেয়ো না।’ –সহিহ বোখারি শরিফ: ৬৬৬৮

হজরত জাবের ইবনে সুমরা (রা.) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে এমন একজন লোকের লাশ আনা হলো, যে তীরের মাধ্যমে আত্মহত্যা করেছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) তার জানাজা পড়েননি।’ –সহিহ মুসলিম শরিফ: ৯৭৮

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) সূত্রে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘একজন মুসলমানকে হত্যা করা পুরো দুনিয়া ধ্বংস করার নামান্তর।’ –তিরমিজি: ১৩৯৫

বর্তমানে ভুল পথে পরিচালিত হয়ে মুসলিম নামধারি কিছু ব্যক্তি আত্মঘাতী হামলার সাথে সম্পৃক্ত হয়। এছাড়াও বিশ্বমিডিয়া মুসলমানদের অনুকূলে না থাকার কারণে সঠিক তথ্য প্রমাণ ছাড়ায় ঢালাওভাবে বিভিন্ন হামলা এবং আত্মঘাতী হামলায় মুসলমানদের জড়িত থাকার সন্দেহ করা হচ্ছে এবং দোষ দেওয়া হচ্ছে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহকে, অনেক ক্ষেত্রে প্রমাণিত হয়েছে যে এসব হামলা পরবর্তীতে মুসলিমরা করেনি।
পরিশেষে এটা বলা যায় যে বা যারা এধরনের আত্মহত্যা বা আত্মঘাতী হামলার সাথে জড়িত তারা কোরআন হাদিস জানে না বা মানে না বা ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে। সুতারাং তারা কোনভাবেই প্রকৃত মুসলমান হতে পারে না। এসব ব্যাক্তি বা গোষ্টি ইসলামের প্রতিনিধি নয় এরা প্রকৃতপক্ষে ইসলাম এবং মুসলিম উম্মাহর শত্রু।

৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন