ইথিওপিয়ায় ঘড়ির কাঁটা নিয়ে বড় এক রহস্য! একই সময়, কিন্তু ঘড়িতে ৬ ঘণ্টার পার্থক্য কেন?
ইথিওপিয়ায় বেড়াতে গেলে এমন একটি বিষয় আপনার সামনে আসতে পারে, যা প্রথমবার শুনলে বেশ অবাক লাগবে।
কেউ আপনাকে বলল, সকাল ২টায় দেখা হবে। আপনি ভাবলেন, এত ভোরে আবার দেখা করার কথা কেন?
আসলে তিনি হয়তো রাত ২টা বোঝাননি। তিনি বলেছেন ইথিওপিয়ার স্থানীয় সময় অনুযায়ী সকাল ২টা, যা আমাদের পরিচিত ঘড়ির হিসাবে সকাল ৮টা!
এটাই ইথিওপিয়ার সময় গণনার সবচেয়ে মজার বিষয়।

ইথিওপিয়ায় দুই ধরনের সময়ের হিসাব
ইথিওপিয়ায় একদিকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত সময় ব্যবস্থাটি ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে দেশটির নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানীয় সময় গণনার পদ্ধতিও প্রচলিত।
আন্তর্জাতিক হিসাবে ইথিওপিয়া UTC+3 টাইম জোনে অবস্থিত। বাংলাদেশের সময় UTC+6 হওয়ায় ইথিওপিয়া বাংলাদেশের চেয়ে ৩ ঘণ্টা পিছিয়ে।
কিন্তু স্থানীয় সময় গণনার ক্ষেত্রে হিসাবটা আলাদা।
কেন এমন সময় গণনা?
এর পেছনে রয়েছে ইথিওপিয়ার দীর্ঘদিনের স্থানীয় ঐতিহ্য।
ইথিওপিয়া নিরক্ষরেখার কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে সারা বছর সূর্য প্রায় একই সময়ের আশপাশে ওঠে এবং অস্ত যায়। সাধারণভাবে সূর্যোদয়কে প্রায় সকাল ৬টা এবং সূর্যাস্তকে প্রায় সন্ধ্যা ৬টা ধরে সময় গণনা করার ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে।
অর্থাৎ আন্তর্জাতিক ঘড়ির হিসাবে সকাল ৬টাকে তারা স্থানীয় সময়ের ১২টা ধরে নেয়।
তারপর সূর্য ওঠার পর সময় গুনতে থাকে:
সকাল ৭টা → স্থানীয় ১টা
সকাল ৮টা → স্থানীয় ২টা
সকাল ৯টা → স্থানীয় ৩টা
এভাবে দুপুরের দিকে স্থানীয় সময় ৬টা হয়।
আবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্থানীয় সময় ১২টা ধরে রাতের সময় গণনা শুরু হয়।
একটি টেবিলে পুরো বিষয়টি
| ইথিওপিয়ার আন্তর্জাতিক সময় | ইথিওপিয়ার স্থানীয় সময় |
|---|---|
| সকাল ৬টা | ১২টা |
| সকাল ৭টা | ১টা |
| সকাল ৮টা | ২টা |
| সকাল ৯টা | ৩টা |
| সকাল ১০টা | ৪টা |
| সকাল ১১টা | ৫টা |
| দুপুর ১২টা | ৬টা |
| দুপুর ১টা | ৭টা |
| দুপুর ২টা | ৮টা |
| বিকেল ৩টা | ৯টা |
| বিকেল ৪টা | ১০টা |
| বিকেল ৫টা | ১১টা |
| সন্ধ্যা ৬টা | ১২টা |
| সন্ধ্যা ৭টা | ১টা |
| রাত ৮টা | ২টা |
| রাত ৯টা | ৩টা |
| রাত ১০টা | ৪টা |
| রাত ১১টা | ৫টা |
| রাত ১২টা | ৬টা |
বাংলাদেশ থেকে গেলে বিষয়টা কীভাবে বুঝবেন?
ধরুন বাংলাদেশে রাত ১০টা।
ইথিওপিয়ার আন্তর্জাতিক সময় হবে সন্ধ্যা ৭টা।
কিন্তু ইথিওপিয়ার স্থানীয় সময় গণনা অনুযায়ী সেই সময় হবে দুপুর ১টা।
অর্থাৎ:
বাংলাদেশের রাত ১০টা = ইথিওপিয়ার আন্তর্জাতিক সময় সন্ধ্যা ৭টা = ইথিওপিয়ার স্থানীয় সময় ১টা।
তাহলে ইথিওপিয়ায় বেড়াতে গেলে কী করবেন?
এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কারণ স্থানীয় মানুষ দৈনন্দিন কথাবার্তায় স্থানীয় সময় ব্যবহার করতে পারেন। আপনি যদি প্রথমবার ইথিওপিয়ায় যান, তাহলে শুধু সময় শুনে ধরে নেবেন না যে সেটি আমাদের পরিচিত ঘড়ির সময়।
কেউ যদি বলে:
কাল সকাল ২টায় গাড়ি আসবে।
তাহলে সঙ্গে সঙ্গে জিজ্ঞেস করুন:
Ethiopian time, নাকি international time?
কারণ Ethiopian local time অনুযায়ী সকাল ২টা মানে আন্তর্জাতিক হিসাবে প্রায় সকাল ৮টা।
একইভাবে কেউ যদি বলে সকাল ৪টায় বের হতে হবে, সেটি আন্তর্জাতিক সময়ের সকাল ৪টা নাও হতে পারে। স্থানীয় সময় অনুযায়ী সেটি প্রায় সকাল ১০টা হতে পারে।
বিমান, বাস ও ট্যুরের সময় কীভাবে ধরবেন?
বিমান, আন্তর্জাতিক যাতায়াত বা গুরুত্বপূর্ণ বুকিংয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে।
টিকিট বা বুকিংয়ে যে সময় দেওয়া আছে, সেটি নিজের মতো করে ৬ ঘণ্টা পরিবর্তন করবেন না। বিমান সংস্থা, বিমানবন্দর বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া সময়ই অনুসরণ করুন।
আর স্থানীয় কারও কাছ থেকে কোনো সময় শুনলে পরিষ্কার করে জেনে নিন সেটি Ethiopian time নাকি international time।
প্রয়োজনে আপনার ফোনের ঘড়িতে আন্তর্জাতিক সময় দেখিয়ে স্থানীয় সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।
খুব সহজে মনে রাখুন
ইথিওপিয়ার স্থানীয় সময়ের মূল ধারণাটি হলো:
সূর্যোদয় ≈ স্থানীয় ১২টা
দুপুর ≈ স্থানীয় ৬টা
সূর্যাস্ত ≈ স্থানীয় ১২টা
তাই ইথিওপিয়ার স্থানীয় সময় শুনে প্রথমে অদ্ভুত লাগলেও বিষয়টি আসলে বেশ সহজ।
এটি আলাদা কোনো টাইম জোন নয়। ইথিওপিয়ার সরকারি আন্তর্জাতিক সময় UTC+3-ই। স্থানীয় সময় পদ্ধতিটি হলো সূর্যোদয়কে দিনের শুরু ধরে সময় বলার একটি ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি।
তাই ইথিওপিয়ায় গেলে একটি কথা মনে রাখবেন
সময় জিজ্ঞেস করার পাশাপাশি জিজ্ঞেস করুন: Ethiopian time, নাকি international time?
এই ছোট্ট প্রশ্নটি আপনার ভ্রমণে বড় ধরনের বিভ্রান্তি থেকে বাঁচাতে পারে।


