সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৭ তারিখে ৮:০৭ অপরাহ্ণ
আজ : ১২ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং | ২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

সময় এসেছে ডিভি ২০১২ পূরণ করার

মেহেদী আকরাম | অক্টোবর ৬, ২০১০, ১:০৯ পূর্বাহ্ণ
Domain

স্বপ্নের দেশে (যুক্তরাষ্ট্র) যাবার জন্য প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মানুষ ডিভি ফরম পূরণ করে থাকে। ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) ২০১২-এর অধীনে এবারও আবেদন করতে হবে অনলাইনে। একমাত্র www.dvlottery.state.gov সাইট থেকে ডিভি ২০১২ পূরণ করতে হবে। বাংলাদেশ থেকে ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি)’ আওতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৯,০০০ বাংলাদেশী যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হয়েছেন। আবেদনকারীরা চাইলে তাদের আবেদনপত্র নিজেরাই প্রস্তুত করে পাঠাতে পারেন অথবা তাদের হয়ে অন্য কেউ তা পাঠাতে পারেন। তবে দোকানে বা সাইবার ক্যাফেতে যারা ডিভি করে থাকেন তাদের বেশ কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ। আবেদনপত্র সফলভাবে নিবন্ধিত হলে আপনি একটি কনফার্মেশন নোটিশ আসবে যেখানে আবেদনকারীর নাম এবং একটি বিশেষ কনফার্মেশন নম্বর থাকবে। আবেদনকারী কনফার্মেশন নোটিশটি প্রিন্ট করবেন এবং নিজের কাছে সংরক্ষণ করে রাখবেন। ১লা মে, ২০১১ থেকে ঐ একই ওয়েবসাইটে এন্ট্রি স্ট্যাটাস চেক করা যাবে। তাতে উক্ত বিশেষ কনফার্মেশন নম্বর এবং ব্যক্তিগত তথ্য প্রদানের মাধ্যমে আবেদনকারী আবেদনপত্রের অবস্থান জেনে নিতে পারবেন। একমাত্র এন্ট্রি স্ট্যাটাস চেক এর মাধ্যমে আবেদনকারী জানাতে পারবে তিনি ডিভি ২০১২ এর জন্য নির্বাচিত হয়েছেন কিনা।
এছাড়াও নিয়ম মাফিক ছবি না হলে শুরুতেই আবেদন বাতিল হয়ে যাবে তাই ছবির ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কোন আবেদনকারী একাধিক আবেদনপত্র জমা হলে তার সকল আবেদনপত্র বাতিল হয়ে যাবে, তার পক্ষ হয়ে যেই আবেদনপত্র জমা দিক না কেন।
ডিভি ২০১২ সম্পর্কে কিছু তথ্য: যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দফতর বাৎসরিক ভিত্তিতে ডাইভারসিটি ইমিগ্র্যান্ট ভিসা কর্মসূচী পরিচালনা করে থাকে। এই কর্মসূচী যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের ম্যান্ডেট প্রাপ্ত। ইমিগ্রেশন এন্ড ন্যাশনালিটি এ্যাক্ট (আইএনএ) এর ধারা ২০৩ (গ) এর বিধান অনুযায়ী এই কর্মসূচী পরিচালিত হয়ে থাকে। ১৯৯০ সালের ইমিগ্রেশন এ্যাক্ট বা অভিবাসী আইনের ধারা ১৩১ (পাবালিক আইন ১০১-৬৪৯), আইএনএর ২০৩ নম্বর ধারাটি সংশোধন করে এবং ‘ডাইভারসিটি ইমিগ্র্যান্ট’ নামে এক শ্রেণীর নতুন অভিবাসী শ্রেণীর সৃষ্টি করে। যে সব দেশের মানুষ যুক্তরাষ্টে কম আছেন সে সব দেশের মানুষের জন্য বছরে ৫৫,০০০ ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) প্রদানের বিধান আইএনএর ধারা ২০৩ (গ) তে রাখা হয়েছে। বার্ষিক ডিভি কর্মসূচী সাধারণ অথচ কঠোর গ্রহণযোগ্যতার বিধান পূরণে সক্ষম ব্যক্তিদের ভিসা প্রদানের ব্যবস্থা করে। র‌্যানডম বা বিক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে কম্পিউটার পরিচালিত একটি লটারির মাধ্যমে বিজয়ীদের বাছাই করা হয়। এই ভিসা ছয়টি ভৌগলিক অঞ্চলে ভাগ করে দেয়া হয়। যে সব অঞ্চলের লোক যুক্তরাষ্ট্রে কম অভিবাসী হয়েছেন সে সব অঞ্চলে বেশী সংখ্যক ভিসা দেয়া হয়ে থাকে। গত পাঁচ বছরে যে সব দেশ থেকে ৫০,০০০ হাজারের বেশী লোক যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হয়েছেন সে সব দেশের বাসিন্দাদের কোন ডিভি ভিসা দেয়া হয় না। কোন একটি অঞ্চলের কোন একক দেশই এক বছরের মোট প্রদেয় ডিভি ভিসার শতকরা ৭ শতাংশের বেশী বরাদ্দ পাবে না। অর্থাৎ এ বছর সর্বোচ্চ ৩,৫০০ বাংলাদেশী এই প্রোগ্রামের আওতায় ভিসা পেতে পারেন।
ডিভি ২০১২ রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা: ডিভি ২০১২ এর লটারির আবেদন ৫ই অক্টোবর (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা), ২০১০ সালে শুরু হয়ে ৩রা নভেম্বর, ২০১০ সালের (বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা) পর্যন্ত ইলেকট্রনিক উপায়ে (অনলাইনে) জমা দিতে হবে। কাগজে লেখা আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: ডিভি লটারিতে অংশ নেয়ার জন্য আবেদনকারীর অবশ্যই ডিভি কর্মসূচীর জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা বা কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ডিভি লটারিতে অংশ নেয়ার জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষা থাকতে হবে। এর অর্থ আবেদনকারীকে প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয় মিলিয়ে ১২ বছরের শিক্ষা জীবন সমাপ্ত করতে হবে। অথবা গত পাঁচ বছরের মধ্যে এমন কাজের দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে যে কাজ করতে কমপক্ষে দুই বছরের প্রশিক্ষণের বা অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়। কাজের গ্রহণযোগ্য অভিজ্ঞতা সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানার জন্য www.online.onetcenter.org সাইটটি দেখতে পারেন। ডিভি আবেদনপত্রের সঙ্গে শিক্ষার বা কাজের অভিজ্ঞতার সনদপত্র জমা দিতে হবে না। কিন্তু সনদপত্র ভিসা প্রাপ্তির পরে ইন্টারভিউ এর সময় কনস্যুলার অফিসারের কাছে অবশ্যই পেশ করতে হবে।
ডিজিটাল ছবি জমা দেয়ার নিয়ম: ডিভি এন্ট্রি ফর্মের সাথে আবেদনকারী, তার স্বামী/স্ত্রী এবং প্রত্যেক সন্তানের একটি করে ডিজিটাল ছবি অবশ্যই জমা দিতে হবে। গ্রুপ বা পরিবারের একসাথে ছবি গ্রহণযোগ্য হবে না, সকলের আলাদা আলাদা ছবি জমা দিতে হবে। ডিভিতে আবেদনের সময় সকলের সঠিক ছবি জমা না দিলে ভিসা ইন্টারভিউ এর সময় মূল আবেদনকারীসহ পরিবারের সকলকে অযোগ্য বিবেচনা করা হবে। ছয় মাসের পুরাতন ছবি, সম্পাদিত, কমিপউটারের মাধ্যমে সম্পাদিত ছবি জমা দিলে তা অনলাইন আবেদনপত্র বাতিল বা ভিসা আবেদনপত্র প্রত্যাখিত হতে পারে। ছবিটি হতে হবে ডিজিটাল ক্যামেরাই তোলা অথবা স্ক্যান করা। ছবি সম্পর্কে কিছু গঠনগত ও কারিগরীগত নিয়মাবলী নিন্মরূপ:
মাথার অবস্থান: যার ছবি তোলা হচেছ তাকে ক্যামেরার দিকে সরাসরি মুখ করে ছবি তুলতে হবে। ছবি তোলার সময় মাথা উপরের দিকে তুলে বা নীচের দিকে নামিয়ে বা ডানে-বামে কাত করা চলবে না। মাথার উচ্চতা এবং মুখ এলাকার আকার (চুল সহ মাথার উপর থেকে থুথনির নীচ পর্যন্ত মাপতে হবে) ছবির মোট উচ্চতার ৫০ থেকে ৬৯ শতাংশ হতে হবে। চোখের উচ্চতা (ছবির নীচ থেকে শুরু করে চোখের লেভেল পর্যন্ত মাপতে হবে) ছবির উচ্চতার ৫৬ থেকে ৬৯ শতাংশ হতে হবে।
পটভূমি: সাদা বা হালকা রঙের পটভুমিতে ছবি তুলতে হবে। কালো অথবা খুব গাঢ় বা কোন নকশা করা বা জাঁকাল পটভূমিতে তোলা ছবি গ্রহণযোগ্য হয় না।
ফোকাস: ছবিতে ব্যক্তির মুখ ফোকাসের মধ্যে থাকতে হবে, না থাকলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
সাজসজ্জা: গাঢ় রঙের চশমা পরে বা চেহারার মধ্যে অন্য কিছুতে মনোযোগ আকৃষ্ট করে এমন কোন কিছু পরে তোলা ছবি গ্রহণযোগ্য হয় না।
মস্তকাবরণী এবং টুপি: ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে মাথা ঢাকা বা হ্যাট পরা ছবি গ্রহণযোগ্য; কিন্তু তা কোনক্রমেই আবেদনকারীর মুখমন্ডলের কোন অংশকে আড়াল করলে চলবে না। উপজাতীয় বা ধর্মীয় নয় এমন কোন মন্তকাবরণীসহ ছবি গ্রহণযোগ্য নয়। যেমন; সামরিক বাহিনী, বিমান কোম্পানি বা অন্য কোন প্রকারের হ্যাট পরা ছবি গ্রহণ করা হয় না।
শুধুমাত্র রঙিন ছবি (24 bit color depth) গ্রহণযোগ্য। ছবিটি অবশ্যই জেপিইজি (jpeg) ফরম্যাটে হতে হবে। ছবির সর্বোচচ আকার হবে ২৪০ কিলোবাইট। ছবিটি অবশ্যই দৈর্ঘ্যে ৬০০ পিক্সেল এবং প্রস্থে ৬০০ পিক্সেল হতে হবে।
ডিজিটাল ছবির ক্ষেত্রে ২৪ বিট কালার হতে হবে (সাদা-কালো, মনোক্রোম অথবা গ্রেস্কেল ইমেজ গ্রহণ করা হয় না)। রেজুলেশন প্রতি ইঞ্চিতে ১৫০ পিক্সেল। অর্থাৎ দৈর্ঘ্যে এবং প্রস্থে উভয়ে ৪ ইঞ্চি।
স্ক্যান করা ছবির ক্ষেত্রে ছবির আকৃতি, প্রিন্টের রং, গঠনগত বৈশিষ্টের কোন পরিবর্তন করা যাবে না। স্ক্যানার রেজুলেশন প্রতি ইঞ্চিতে ৩০০ ডট (ডিপিআই) রেখে ছবিটি স্ক্যান করতে হবে এবং সেটিং True color অথবা 24 bit color ফর্মে থাকতে হবে।
আবেদনপত্র জমা দেওয়ার আগে ডিভি’র ওয়েবসাইটে ফটো ভ্যালিডেটর লিংক (www.dvlottery.state.gov/photo.aspx) থেকে আবেদনকারীরা ছবি পরীক্ষা করে নিতে পারবেন।
আবেদনপত্র: ডিভি ২০১২ লটারিতে আবেদনপত্র পাঠানোর একটিই মাত্র পথ আছে। আবেদনকারীকে অবশ্যই ইলেক্ট্রনিক ডাইভারসিটি ভিসা (ইডিভি) আবেদনপত্র জমা দিতে হবে যা পাওয়া যাবে www.dvlottery.state.gov এই ঠিকানায়। সকল তথ্য সম্পূর্ণ এবং সঠিক না হলে আবেদনপত্র বাতিল হয়ে যাবে।
আবেদন ফরম এর খুটিনাটি:
১. পুরো নাম: আবেদনকারীর নামের শেষাংশ/পারিবারিক নাম, প্রথম অংশ, মাঝের অংশ
২. জন্ম তারিখ: দিন, মাস, বছর
৩. লিঙ্গ: পুরুষ অথবা নারী
৪. জন্মস্থান: কোন শহরে জন্ম হয়েছে (ঐচ্ছিক)
৫. আবেদনকারী যেদেশে জন্মগ্রহণ করেছে: আবেদনকারী যেদেশে জন্মগ্রহণ করেছে সেই দেশের বর্তমানে প্রচলিত নাম উল্লেখ করতে হবে।
৬. যে যোগ্য ভৌগালিক অঞ্চলের দেশের বাসিন্দা তার নাম: আবেদনের জন্য যোগ্যতাসম্পন্ন দেশ যদি আবেদনকারী যে দেশের অধিবাসী, তা তার জন্মস্থানের থেকে পৃথক হয় আবেদনকারী যদি তার জন্মস্থানের থেকে পৃথক কোন দেশের অধিবাসী বলে নিজেকে দাবী করেন তাহলে তার আবেদনপত্রে এই তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। যদি কোন আবেদনকারী তার স্বামী/স্ত্রী বা পিতামাতার সূত্রে কোন দেশের অধিবাসী বলে নিজেকে দাবী করেন তাহলে তা তার আবেদনপত্রে উল্লেখ করতে হবে। (সাধারণ ভাবে বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী আবেদনকারীরা Are you claiming eligibility based on the country where you were born? এ Yes রাখবে এবং If not, you must enter the country from which you are claiming eligibility. এ কোন দেশ নির্বাচন করবে না)
৭. আবেদনকারীর ছবি: পূর্ব থেকে চেক করে রাখা ছবি যুক্ত করতে হবে।
৮. পূর্ণ ঠিকানা: ঠিকানা, শহর, জেলা/দেশ/প্রদেশ/রাষ্ট্র, পোস্টাল কোড/জিপ কোড, দেশ।
৯. যে দেশে এখন বসবাস করছেন তার নাম।
১০. ফোন নম্বর: ঐচিছক
১১. ইমেইল ঠিকানা: নিজে একটি ফ্রি ইমেইলে ঠিকানা খুলে নেয়া ভালো যদি নিজের কোন ইমেইল ঠিকানা না থাকে। যদিও এই ঠিকানায় আবেদনকারীর কাছে সরকারীভাবে নির্বাচিত হবার কোন খবর যাবে না। তবে, বিজয়ী হবার পরে সমস্ত যোগাযোগ এবছর ইমেইলের মাধ্যমে করা হবে এবং আবেদনকারী যদি এন্ট্রি স্টেটাস এর মাধ্যমে আবেদন বাছাইয়ের নোটিশের ব্যাপারে জবাব দেয়, তাহলে কেনটাকি কনসুলার সেন্টার থেকে (কে.সি.সি) ইমেইলের মাধ্যমে আবেদনকারী পরবর্তী খবরা-খবর জানতে পারবেন, যেখানে বলা থাকবে যে এন্ট্রি স্টেটাস চেকে আবেদনকারীর ইমিগ্রেন্ট ভিসা সাক্ষাৎকারের ব্যাপারে বিস্তারিত দেওয়া আছে।
১২. আপনার সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা যা আপনি ইতিমধ্যে অর্জন করেছেন তা কোনটি?
আবেদনকারীকে অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে নিন্মোক্ত কোন সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা আবেদনকারীর জন্য প্রযোজ্য:
ক. শুধুমাত্র প্রাইমারী শিক্ষা
খ. উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা, কিন্তু ডিগ্রী নাই
গ. উচ্চ মাধ্যমিক ডিগ্রী
ঘ. কারিগরী শিক্ষা
ঙ. বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কোর্স করেছেন
চ. বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী
ছ. স্নাতক পর্যায়ে কিছু কোর্স করেছেন
জ. স্নাতকোত্তর ডিগ্রী
ঝ. ডক্টোরেট পর্যায়ে কিছু কোর্স করেছেন
ঞ. ডক্টোরেট ডিগ্রী
১৩. বৈবাহিক অবস্থা: অবিবাহিত, বিবাহিত, তালাকপ্রাপ্ত, বিধবা/বিপত্নিক, বৈধভাবে বিচেছদ। (ডিভি করার আগে যদি আবেদনকারী তালাকের পরিকল্পনা করেন, তারপরেও আবেদনকারীর স্বামী/স্ত্রী এর নাম দিতে হবে।)
১৪. সস্তানের সংখ্যা: আবেদনকারীর সন্তান, আইনগতভাবে বৈধ দত্তক সন্তান, সৎ ছেলেমেয়ে, যদিও আবেদনকারী সন্তানের পিতা/মাতার সঙ্গে আর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ নন এবং এমনকি যদিও ওই স্বামী/স্ত্রী বা সন্তান বর্তমানে আবেদনকারীর সঙ্গে থাকে না বা আবেদনকারীর সঙ্গে অভিবাসী হবে না তবুও আবেদনকারীকে উক্ত সন্তানদের নাম, জন্ম তারিখ ও জন্মস্থান আবেদনপত্রে উল্লেখ করতে হবে। এই আবেদনপত্রে কেবলমাত্র সেই সব সন্তানের ছবি দিতে হবে না যারা ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অথবা সেখানকার বৈধ স্থায়ী অধিবাসী। এতদ সকল সন্তানই অবিবাহিত এবং ২১ বছরের কম বয়সী হতে হবে। বিবাহিত সন্তান বা ২১ বছর বা তদুর্ধ বয়সী সন্তান ডাইভারসিটি ভিসা পাওয়ার যোগ্য নয়। তদুপরী কিছু কিছু ক্ষেত্রে মার্কিন আইন একুশোর্ধ সন্তানদের সুবিধা দিয়ে থাকে। যদি আবেদনকারীর ডিভি আবেদনের আগে অবিবাহিত সন্তান ২১ বছরের কম হয়ে থাকে এবং আবেদনকারী ডিভি’র জন্য নির্বাচিত হন এবং আবেদনকারীর ভিসা প্রসেসিং এর সময় তার সন্তানের বয়স ২১ বছর অতিক্রান্ত হয়ে যায় তবে তাকে ২১ বছরের কম বলেই বিবেচনা করা হবে। তবে আবেদনের জন্য যোগ্য সকল সন্তানকে তালিকাভুক্ত করা না হলে ভিসার জন্য আবেদনকারী অযোগ্য বিবেচিত হবেন।
১৫. স্বামী/স্ত্রী সংক্রান্ত তথ্য: নাম, জন্ম তারিখ, লিঙ্গ, জন্মের শহর, জন্মের দেশ, ছবি। স্বামী/স্ত্রী সংক্রান্ত তথ্য উল্লেখ না করলে মূল আবেদনকারীসহ সকলে ইন্টারভিউ এর সময় ভিসার জন্য অযোগ্য বিবেচিত হবেন। ভিসা আবেদন করার আগে যদি আবেদনকারী তালাকের পরিকল্পনা করেন, তারপরেও আবেদনকারীর স্বামী/স্ত্রী এর নাম উল্লেখ করতে হবে।
১৬. সন্তান সংক্রান্ত তথ্য: নাম, জন্মের তারিখ, লিঙ্গ, জন্মের শহর, জন্মের দেশ, ছবি । ১৪ নং উল্লেখিত সকল সন্তানদেরকে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।
আবেদনকারী বাছাই: সকল যোগ্য আবেদনপত্রের মধ্য থেকে কম্পিউটারের মাধ্যমে নির্বিচারে আবেদনকারী বাছাই করা হয়ে থাকে। ডিভি’র ওয়েবসাইটের এন্ট্রি স্ট্যাটাস চেক করে আবেদনকারীরা তাদের বাছাই এর ব্যাপারে জানতে পারবে ১মে ২০১১ থেকে। বিজয়ীরা ওয়েবসাইটে একটা কনফার্মেশন পৃষ্ঠা পাবেন যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশনের ভিসা ফি সংক্রান্ত বিষয়সমূহসহ পরবর্তী নিয়মাবলীগুলো দেওয়া থাকবে। শুধুমাত্র এন্ট্রি স্টেটাস চেক করে আবেদনকারীরা তাদের বাছাই এর ব্যাপারে জানতে পারবেন। যারা লটারীতে বিজয়ী হবেন তাদের ইমেইল এর মাধ্যমে জানানো হয় না। আর যারা লটারীতে বিজয়ী হবেন না, তাদেরকেও এন্ট্রি স্টেটাস চেক এর মাধ্যমে জানতে হবে।
সফল আবেদনকারীদের স্বামী/স্ত্রী এবং অবিবাহিত ও ২১ বছর বয়সের কম সন্তানেরাও প্রধান আবেদনকারীর সাথে অভিবাসন গ্রহণের জন্য অথবা পরবর্তীতে তার সাথে যোগ দেয়ার জন্য ভিসার আবেদন করতে পারবেন। ২০১১ সালের ১লা অক্টোবর থেকে ২০১২ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বর মধ্যে ডিভি ২০১২ কার্যক্রমের সকল ভিসা ইস্যু করতে হবে। আবেদনপত্র প্রক্রিয়াকরণ এবং সফল আবেদনকারী ও তাদের পরিবারের যোগ্য সদস্যদের ডিভি অবশ্যই ২০১২ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বর তারিখের মধ্যরাতের আগেই ইস্যু করতে হবে। কোন পরিস্থিতিতেই এই তারিখের পরে কোন ডাইভারসিটি ভিসা ইস্যু বা কোন প্রকার সমন্বয় করা হয় না বা মূল আবেদনকারীর সাথে যোগ দেয়ার জন্য তার পরিবারের কোন সদস্যকেও এই তারিখের পরে ভিসা দেয়া যায় না।
প্রকৃতপক্ষে একটি ভিসা লাভের জন্য নির্বিচারে বাছাইয়ের মাধ্যমে নির্বাচিত আবেদনকারীদেরকে যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী ও চাহিদামাফিক সকল শর্ত পূরণ করতে হবে। এই সকল শর্ত পূরণ হয়েছে কিনা তার যাচাইকার্য যথেষ্টভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে যদি আবেদনকারী এমন কোন দেশের নাগরিক হন যে দেশ সন্তাসবাদ সমর্থক দেশ হিসেবে চিহিূত।
ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস তাদের পক্ষ থেকে সকল প্রতারণা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে ডিভি ২০১২ লটারিতে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক প্রার্থীদের অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সময় কিছু নির্দেশনা অনুসরণের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ডিভি ২০১২ আবেদন সংক্রান্ত নির্দেশনা ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের ওয়েবসাইট http://dhaka.usembassy.gov থেকে পাওয়া যাবে।

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন